দেবব্রত মন্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত হল বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান

দক্ষিণবঙ্গ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ গঙ্গা সাগর জেলা অধীনস্থ মহেশতলা প্রখন্ডের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ আশুতি পঞ্চানন্দতলা উপখন্ডের পক্ষ থেকে মহালয়া পূর্ণ লগ্নে চন্ডীপাঠ এবং দুঃস্থ মানুষদের বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হল। অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক দেবব্রত মন্ডল। শুধু বস্ত্র বিতরণ নয় সাথে ছিল ভোগ। এই দিন পুজো উপলক্ষে বহু মানুষকে বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস সুমন ভট্টাচার্য,শ্রী বিধান ঘাটা,উত্তম মন্ডল এছাড়াও ছিল বহু বিশিষ্ট মানুষ জনেরা এবং সাধু সন্তরা। অনুষ্ঠান টি ছিল দেখার মত। মহালয়া হলো পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের এক পুণ্য সন্ধিক্ষণ, যার মাধ্যমে সনাতন ধর্মে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। 'মহালয়া' শব্দটির অর্থ হলো— মহান যে আলয় বা আশ্রয়। শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে মহালয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। এর মূল মাহাত্ম্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো। মহালয়া তিথিতে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের (পিতৃপক্ষ) সমাপ্তি ঘটে এবং শুক্লপক্ষের (দেবীপক্ষ) শুভ সূচনা হয়।
অমাবস্যার অন্ধকার দূর করে চারদিক আলোকময় দেবীপক্ষের শক্তিতে জাগ্রত হয়ে ওঠে। মহালয়া মূলত একটি অমাবস্যা তিথি, যা সর্বপিতৃ অমাবস্যা নামেও পরিচিত। • এই পুণ্য তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নদী বা জলাশয়ে গিয়ে তাঁদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের (পিতৃপুরুষ) আত্মার শান্তির জন্য জল ও তিল দান বা তর্পণ করেন। • বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে তর্পণ করলে পূর্বপুরুষরা নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে বংশধরদের আশীর্বাদ প্রদান করেন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা তাঁর স্বামীগৃহ কৈলাশ ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ি অর্থাৎ মর্ত্যলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। এই দিন থেকেই দেবীর আবাহন বা বোধন (জাগরণ) শুরু হয়। মৃৎশিল্পীরা এই বিশেষ তিথিতেই মা দুর্গার প্রতিমার চক্ষুদান সম্পন্ন করেন। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের তেজঃপুঞ্জ থেকে মহামায়া রূপী দেবী দুর্গার সৃষ্টি হয়েছিল। এই মহালয়া তিথিতেই দেবতারা নানা অস্ত্রে সজ্জিত করে দেবীকে মহিষাসুর বধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। তাই এই দিনটি অন্যায়, অত্যাচার এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে পরম শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক।
• রামায়ণ অনুসারে: ত্রেতাযুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র লঙ্কা জয়ের উদ্দেশ্যে এবং সীতাকে উদ্ধারের জন্য শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। বসন্তকালের পরিবর্তে শরৎকালের এই পূজাকেই বলা হয় অকালবোধন। রামচন্দ্রও এই তিথিতেই পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেছিলেন। মহাভারত অনুসারে: দাতা কর্ণের মৃত্যুর পর স্বর্গে গেলে তাঁকে খাবার হিসেবে কেবল সোনা ও রত্ন দেওয়া হয়, কারণ মর্ত্যে তিনি কোনোদিন পিতৃপুরুষদের অন্ন-জল দেননি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে কর্ণ যমরাজের অনুমতি নিয়ে ১৫ দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে এসে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে পিণ্ডদান ও তর্পণ করেন। সেই সময়কালটিই মহালয়া পক্ষ হিসেবে পরিচিত। বাঙালির কাছে মহালয়ার ভোর মানেই এক চিরন্তন আবেগ। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠে রেডিওতে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠান এবং চণ্ডীপাঠ শ্রবণ করা বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিউলি ফুলের গন্ধ আর ঢাকের আওয়াজে এই দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় দুর্গাপূজার আনন্দ উৎসব।

Comments

Popular posts from this blog

ওয়েষ্ট বেঙ্গল এফ পি এস ডিলারগণের জীবন ও জীবিকার স্বার্থে যৌথ মঞ্চ গঠনের বৃহত্তর সমাবেশ

শুক্রবার সৌরভ ভেঞ্চার এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত ইমামদার সিনেমা পোস্টার লঞ্চ হল

নীহারিকা সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসে সরস্বতী পুজো