গোয়ালবাটি যুবচক্র ক্লাবে তালা বৈশাখী মেলা বন্ধ হওয়া নিয়ে বিধায়কে প্রশ্ন সাংবাদিকদের
উত্তর সোনারপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গোয়ালবাটী এলাকার ঐতিহ্যবাহী ও অরাজনৈতিক সংগঠন “গোয়ালবাটী যুবচক্র ক্লাব” দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নিজেদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ক্লাবটি এলাকার বহু প্রতিভাবান শিশু-কিশোরকে ফুটবল, ক্রিকেট ও ক্যারাটে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে। প্রায় ৩০০-এরও বেশি শিশু নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়ার পথে এগিয়ে চলেছিল এই ক্লাবের হাত ধরেই। শুধু খেলাধুলা নয়, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোয়ালবাটী যুবচক্র ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু হঠাৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে আসে ক্লাব ও এলাকার মানুষের জীবনে। অভিযোগ, আচমকাই গেরুয়া পতাকা টাঙিয়ে বন্ধ হয়ে যায় বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। এর প্রভাব শুধু সংস্কৃতির ওপরই পড়েনি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের রুজি-রোজগারও। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে সেই সব ছোট ছোট শিশুদের মনে, যাদের চোখে ছিল স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ গড়ার আশা। এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মনেও একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে— কেন বন্ধ হলো এই ঐতিহ্য? শিশুদের ভবিষ্যৎই বা কোন পথে এগোবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সাংবাদিকদের একাংশ পৌঁছে যান গোয়ালবাটী যুবচক্র ক্লাবের ফুটবল ময়দানে, যেখানে ভারতীয় হিন্দু শক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর সোনারপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ধর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিধায়কের কাছে এলাকার মানুষ ও সাংবাদিক মহল জানতে চান, গোয়ালবাটী যুবচক্র ক্লাব ও বৈশাখী মেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর অবস্থান কী এবং শিশুদের স্বপ্ন রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন দেখার, এলাকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং গোয়ালবাটী যুবচক্র ক্লাব আবারও আগের মতো প্রাণ ফিরে পায় কি না।

Comments