বৈশালী পার্ক, দোলতলা, রাজপুর চন্ডী মাতার বাৎসরিক পুজো হল রবিবার
বিপত্তারিণী পুজো হলো মা দুর্গার (পার্বতী) ১০৮ অবতারের অন্যতম এক রূপ, যা প্রধানত আষাঢ় মাসে রথযাত্রা ও উল্টো রথের মধ্যবর্তী মঙ্গল বা শনিবার করা হয় । সংসার, স্বামী ও সন্তানের যাবতীয় বিপদ থেকে মুক্তি এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায় মহিলারা নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করেন। বিপদ থেকে রক্ষা: 'বিপত্তারিণী' শব্দের অর্থ যিনি বিপদ থেকে উদ্ধার করেন । জীবনের নানা সংকট ও জটিলতা থেকে ত্রাণ পেতে এই পুজো করা হয় ।পৌরাণিক কাহিনি: জনশ্রুতি আছে, মল্লভূমের (বিষ্ণুপুর) রাজা যখন জানতে পারেন রানী তাঁর চর্মকার বান্ধবীর বাড়িতে 'গোমাংস'
(মতান্তরে নিষিদ্ধ খাবার) দেখেছেন, তখন তিনি রেগে যান । রানী তখন দেবী দুর্গার শরণাপন্ন হন এবং দেবী সেই নিষিদ্ধ মাংসকে লাল জবা ফুলে পরিণত করে রানীর মান রক্ষা করেন । এই বিশ্বাস থেকেই ১৩টি গাঁট দেওয়া লাল সুতো ধারণ করা হয় ।পরিবারের নিরাপত্তা: সন্তান ও স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং সংসারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে মহিলারা এই পূজা ও ব্রত পালন করেন ।এই পুজোয় ১৩ রকমের নৈবেদ্য এবং ১৩টি গাঁট বিশিষ্ট লাল সুতো (রাখাসূত্র) দেবীকে অর্পণ করে তা হাতে ধারণ করা হয়। রবিবার বিপদত্তারিণী চন্ডীবাড়ি চন্ডীমাতার ধুম ধাম করে পুজো হল।
বৈশালী পার্ক, দোলতলা, রাজপুরে চন্ডীমাতার এ বছরে বাৎসরিক পুজো সম্পূর্ণ হল এই দিন। পুজো উপলক্ষে মানুষের ভিড় ছিল দেখার মত। তবে এই দিন আগত সমস্ত মানুষের ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা ছিল। এই মায়ের সেবক শ্রী সুব্রত সরস্বতী বলেন খুব অল্প বয়স থেকে গুরুদেব বাবা দুলালের শিষ্য আমি। মা কে সেবা করার খুবই ইচ্ছা ছিল। আমি গুরুদেব কে বলি যে আমি মাকে সেবা করতে চাই। গুরুদেব বলেন মায়ের কাছে একান্ত কামনা করতে। তারপর থেকেই মায়ের ঘট স্থাপন করা হয়। এই ভাবেই মায়ের পুজো হয়ে আসছে।অনেকেই বলেন অতি জাগৎ এই মা। এই মায়ের কাছে যে যা মন্সকামনা করে সে তাই পায়।



Comments