নিজের বাস ভবনে কুমারী পুজো করলেন ভক্তা নন্দ গিরি মহারাজ

কুমারী পূজা শুধু আধ্যাত্মিক আচার নয়। এটি ভারতীয় সমাজের নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। ঋকবেদ থেকে তন্ত্রশাস্ত্র—সব জায়গায় এর মাহাত্ম্য বলা আছে। ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কুমারী পূজা কেবলমাত্র ধর্মীয় আচার নয়। এটি মানব জীবনের নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন— 'নারীর মধ্যেই দেবী আছে, তাঁকে সম্মান করো, পূজা কর, এতে শক্তি ও নৈতিকতা উভয়ই বিকশিত হয়।' কুমারী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র রীতি, যা মূলত দুর্গা পূজার মহাষ্টমী বা নবমী তিথিতে ২ থেকে ১৬ বছর বয়সী ঋতুমতী না হওয়া বালিকাদের দেবী দুর্গার রূপ (নয়টি রূপে) হিসেবে আরাধনা করা হয়। তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, কুমারীর মধ্যে প্রকৃতির নারীশক্তি ও ঈশ্বরের প্রভাব বিরাজ করে। এই পুজোর মূল মাহাত্ম্য হলো নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠা, সৃষ্টির প্রাকৃতিক শক্তির উপাসনা এবং দুর্গতিনাশিনী দেবীর আশীর্বাদ লাভ করে সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা। কুমারী পূজার মূল মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য:
নারীশক্তির জাগরণ: প্রাচীনকাল থেকে মুনিঋষিরা বিশ্বাস করতেন, নারীর মধ্যেই প্রকৃতির আসল রূপ বিরাজমান। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়, যা নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে দৃঢ় করে। দেবীর রূপ হিসেবে আরাধনা: বিশ্বাস করা হয় যে, কুমারী বালিকারা দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক। তাঁদের উপাসনার মাধ্যমে ঘরের সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ আসে। কোলাসুর/বানাসুর বধ: পুরাণ অনুসারে, দেবী দুর্গা কুমারী রূপে অবতীর্ণ হয়ে কোলাসুর বা বানাসুরকে বধ করে স্বৰ্গ-মর্ত্য রক্ষা করেছিলেন। এই বিজয়ের স্মরণে কুমারী পুজো করা হয়। আধ্যাত্মিক জাগরণ: স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, নারীরা সকলেই দেবীর অংশ। তাই তিনি ১৮৯৮-১৯০১ সালে এই পুজোকে ব্যাপক জনপ্রিয় করেন। তান্ত্রিক রীতি: তান্ত্রিক মতে, ষোলো বছরের কম বয়সী অ-ঋতুমতী কন্যাকে দুর্গার প্রতীকে পূজা করা হয়, যা ভক্তকে আধ্যাত্মিক শক্তি প্রদান করে।
পুজোর বিধি: কুমারী পুজোয় বালিকাদের স্নান করিয়ে নতুন কাপড়, আলতা ও চন্দনের ফোঁটা দিয়ে প্রতিমার মতো সাজানো হয় । এরপর বৈদিক মন্ত্রপাঠ ও নৈবেদ্য নিবেদনের মাধ্যমে আরাধনা করা হয় । সংক্ষেপে, কুমারী পুজো হলো নারীসত্তার মধ্যে দেবত্ব খোঁজা এবং প্রকৃতির শক্তির আরাধনা করার এক প্রাচীন ও পবিত্র রীতি। বুধবার নিজে বাসভবন আশ্রমে কুমার পুজো করলেন ভক্তানন্দ গিরি মহারাজ। অনেক বছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। পুজো তে উপস্থিত ছিল সমস্ত বৈষ্ণব সাধু সন্ন্যাসীরা। জগৎ মানুষরে মঙ্গল চেয়ে এই পুজো করা উচিত। আর সেই পুজোই সবার মঙ্গল চেয়ে পুজো করলেন ভক্তানন্দ গিরি মহারাজ। কুমারী মা কে নিজে হাতে সাজিয়ে পুজো আসনে বসান তিনি। তারপর নিয়ম নীতি মেনে চল প্রায় অনেক সময় ধরে পুজো । দিন টি ছিল খুব সুন্দরময় মাধুর্য।

Comments

Popular posts from this blog

নীহারিকা সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসে সরস্বতী পুজো

DBPL Season 4 টেনিস খেলা আয়োজিত হল ডি সি এন ব্যাডমিন্টন ক্লাবে

রবিবার আয়োজিত হল খান্ডল বিপ্রসভা কলকাতা উদ্যোগে দীপাবলি সম্মেলন