সোমবার বিজেপি নেতা কালী খটিকে নেতৃত্বে নিউমার্কট কলকাতা কপোরেশন ডি, সি অফিসে সামনে বিক্ষোভ

হিন্দু ঐক্য গড়তে চাওয়া বিজেপির রাজনীতিকে কার্যকরী ধাক্কা দেওয়া সম্ভব। তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিনরা সেটা করছেন। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সেসব বোধবুদ্ধি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি পয়সায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি করে ভাবছেন, কি দারুন দিলাম! এদিকে এতে করে তারা যে, ধর্ম নিরপেক্ষতাকে চ্যালেঞ্জ করা বিজেপির রাজনীতির সঙ্গেই অভিন্ন জায়গায় পৌঁছে গেলেন তা বোঝার ক্ষমতা তার নেই। তৃণমূল এবং বিজেপির দ্বৈরথ বর্তমানে এক অদ্ভুত অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। এই দ্বৈরথ অতি তীব্র, কিন্তু অতি সূক্ষ্ম। এমনই সূক্ষ্ম যে কখনও কখনও কে তৃণমূল আর কে বিজেপি তা আলাদা করে চেনা যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবলভাবে বিজেপির বিরোধী। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসা আটকাতে তিনি সমস্ত ধরণের পন্থাই ব্যবহার করতে দ্বিধাহীন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু বিজেপির হিন্দুত্ববাদী নীতির বিরোধী নয়। ক্ষমতায় বিজেপির না থাকলেই চলবে। বিজেপির কাজ তৃণমূল করে দেবে। এ এক আশ্চর্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অবশ্য সমগ্র ভারতই এক আশ্চর্য দেশ, এ কথা নিশ্চয়ই সবাই মানবেন। ফলত, এমন ‘আশ্চর্য’ প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা দেশের নানা প্রান্তেই শোনা যায়। কয়েক বছর আগে এমনই এক আপাত মজাদার কিন্তু প্রবলভাবে এই আশ্চর্য ভারতীয় রাজনীতির বার্তাবাহক কথা শুনেছিলাম হরিয়ানায়, সেখানে বেশ কিছুদিন কাটানো এক বন্ধুর মুখে। হরিয়ানায় তখন কংগ্রেস শাসন চলছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতে প্রবল প্রচার চালাচ্ছে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। সেই সময়ে হরিয়ানার কংগ্রেস নেতারা তার পাল্টা নাকি বলতেন যে, হরিয়ানা এমনিতেই ‘হিন্দুরাষ্ট্র’।
হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে আলাদা করে বিজেপির কোনো দরকার এখানে নেই! পশ্চিমবঙ্গেও হয়েছে তাই। বিজেপি হনুমান পুজো করছে, তো তৃণমূলও করছে। আরও বেশি করে করছে। রামনবমী করছে, তো তৃণমূলও করছে। বিজেপি রামমন্দির করছে, তো মমতা বন্দ্যোপাধায় জগন্নাথ মন্দির করছেন। শুধু তাই নয়, পাড়ায় পাড়ায় ব্যানার পোস্টার ঝুলছে, “দীঘায় জগন্নাথ মন্দির করার জন্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন –--- অমুক চন্দ্র তমুখ”, ইত্যাদি। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ নাকি বাড়ি বাড়ি বিলিও করা হবে। এক কথায় মমতা যে বিজেপির থেকেও আরও অনেক বড় হিন্দু তা প্রমাণ করার জন্যে মরীয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল। প্রশ্ন হচ্ছে বিজেপি যদি ক্ষমতায় না থাকে কিন্তু রাজ্যে বিজেপির নীতিই অনুসৃত হয় তাহলে তৃণমূলের শাসনকে কি বিজেপি বিরোধী শাসন বলা যাবে। সোমবার হকার্স বাঁচাও এই দাবী নিয়ে বিজেপি নেতা কালী খটিকে নেতৃত্বে নিউমার্কেট কলকাতা কপোরেশন ডি, সি অফিসে সামনে বিক্ষোভ দেখায়। শুধু তাই নয় ডেপুটেশন জমা দেয় তারা। তাঁদের অভিযোগ বেশ কয়েক বছর ধরে এলাকায় খুন ম্যাডার হচ্ছে এবং এই এরিয়া যত হকার্স রয়েছে তাঁদের বিসনেস করতে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলে গুন্ডারা এসে তাঁদের ওপর অত্যাচার করছে। থানায় জানানো পর কোনো ব্যবস্থা নিছে না এবং তারা আরও বলেন থানার অধিকারিরা এর সাথে জড়িত আছে। তবে কালী খটিক ডেপুটেশন জমা দেওয়ার পর সংবাদ মাধ্যম কে জানায় এবার যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে পুলিশ তার ব্যবস্থা নেবে। আর যদি না নেয় তাহলে আরও বৃহত্তর আনন্দলনে নামবে।

Comments

Popular posts from this blog

শুক্রবার আয়োজিত হল রেলওয়ে অসংগঠিত শ্রমিক ন্যায় ও অধিকার সম্মেলন সভা

বিহার দিবস উপলক্ষে ৩৫নং ওয়ার্ডে রানিয়া ৩০ফুট অটো স্ট্যান্ডে সন্নিকটে আয়োজিত হল একটি সাংকৃতি অনুষ্ঠান

মাধ্যমিক পরীক্ষা উপলক্ষে সনৎ রায়চৌধুরী ইনস্টিটিউট স্কুল ও বৈশালী মোড়ে জল ও পেন বিতরণ